ভারতের শারীরিক শক্তি, গতি আর অভিজ্ঞতার কাছে বড় ব্যবধানে হারল বাংলাদেশের মেয়েরা। বেগম খালেদা জিয়া আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে স্বাগতিকদের হার ৪৭-১৩ গোলে। তবে ফাইনালে ওঠার আশা শেষ হয়নি বাংলাদেশের। মালদ্বীপকে হারাতে পারলেই ভারতের সঙ্গী হবে ফাইনালে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) পল্টনের শহিদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। প্রথমার্ধেই ২৪-৮ গোলে পিছিয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। একাই ১৩ গোল করে ম্যাচসেরা হন ভারতের ভাওয়ানা। টানা দুই জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ভারত। আগামীকাল নেপালের মুখোমুখি হবে তারা।

ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের স্প্যানিশ কোচ আনা আলোনসো ফ্রাগুয়া বলেন, দুই দলই পরিশ্রম করছে, তবে প্রস্তুতির মাত্রায় পার্থক্য রয়েছে। ভারত সারা বছর অনুশীলন করলেও বাংলাদেশ অনুশীলনের সুযোগ পায় বছরে মাত্র তিন মাসের মতো। শারীরিক সক্ষমতা ও হ্যান্ডবলের দক্ষতায় এই ব্যবধান মাঠে স্পষ্ট হয়েছে।

কোচ বলেন, ‘আক্রমণে তাদের একের পর এক খেলোয়াড়কে হারাতে আমাদের সমস্যা হয়েছে। রক্ষণেও তাদের থামানো কঠিন ছিল, কারণ তারা দ্রুতগতির ও শক্তিশালী।’

মালদ্বীপকে নিয়ে সতর্ক আনা বলেন, ‘তারা ভালো দল। ফাইনালে যেতে হলে আমাদের মনোযোগী হতে হবে এবং সেরাটা দিতে হবে।’ ফাইনালে উঠলে ভারতকে চমকে দিতে নতুন কৌশল নেওয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। তবে তার মতে, ভারত এখন বাংলাদেশের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে।

বাংলাদেশের গোলরক্ষক সুমাইয়া বানুও দুই দলের ব্যবধানের কারণ হিসেবে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতার ঘাটতিকে তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের টুর্নামেন্ট খুবই কম হয়। ২০১৯ সালে এসএ গেমসের পর ইসলামিক সলিডারিটি গেমস ছাড়া সিনিয়র পর্যায়ে আর কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় খেলা হয়নি। আমাদের অনেক গ্যাপ।’

সুমাইয়ার মতে, ভারত র‌্যাঙ্কিংয়ে দশম, বাংলাদেশ ৪৮তম। নিয়মিত টুর্নামেন্ট খেলার সুযোগ পেলে ভালো করার আশাও দেখছেন তিনি। গোলের ব্যবধান নিয়ে না ভেবে কোচের নির্দেশনা অনুযায়ী খেলার চেষ্টা করেছেন বলে জানান এই গোলরক্ষক। আজ মালদ্বীপের বিপক্ষে জয়ই বাংলাদেশের সামনে ফাইনালের দরজা খুলে দেবে। সুমাইয়ার আশা, দল জিততে পারলে ফাইনালের প্রস্তুতি নেবে নতুন উদ্যমে।