রাজশাহী: শিক্ষার নগরী হিসেবে পরিচিত রাজশাহী দেশের অন্যতম পরিকল্পিত, পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক শহর। প্রশস্ত সড়ক, সবুজ পরিবেশ, পদ্মা নদীর অপরূপ সৌন্দর্য এবং রাতের আলোকসজ্জা নগরীটিকে করেছে আকর্ষণীয়। শহরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই আসেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ। তবে এই সুন্দর নগরীর সড়কে বেপরোয়া চার্জার অটোরিকশার চলাচল নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।
নগরীর বিভিন্ন সড়কে কিছু চার্জার অটোরিকশাচালকের অনিয়ন্ত্রিত ও ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল পথচারী এবং অন্যান্য যানবাহনের চালকদের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে উঠছে। অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, হঠাৎ মোড় নেওয়া, যত্রতত্র থামানো এবং যানবাহনের ফাঁক দিয়ে দ্রুত চলাচলের মতো আচরণ সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।
রাজশাহীর প্রশস্ত সড়ক সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন যাতায়াতের সুযোগ তৈরি করলেও কিছু চালকের অসতর্কতা ও ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা সেই স্বস্তিকে ম্লান করছে। বিশেষ করে ব্যস্ত মোড়, বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চার্জার অটোরিকশা নগরীর সাধারণ মানুষের যাতায়াতের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। স্বল্প খরচে সহজে গন্তব্যে পৌঁছানোর সুবিধার কারণে এই যানবাহনের ব্যবহার ব্যাপক। তবে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে চালকদের দায়িত্বশীল আচরণ, ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি জরুরি।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, চার্জার অটোরিকশার চলাচল সুশৃঙ্খল করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা, যত্রতত্র গাড়ি থামানো বন্ধ করা, ট্রাফিক আইন সম্পর্কে চালকদের সচেতন করা এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।
রাজশাহী শুধু সৌন্দর্যের নগরী নয়, নিরাপদ চলাচলের শহর হিসেবেও পরিচিত হোক—এটাই নগরবাসীর প্রত্যাশা। পরিকল্পিত ও পরিচ্ছন্ন এই শহরের সুনাম ধরে রাখতে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি।
সচেতন চালক, দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ এবং সুশৃঙ্খল সড়কব্যবস্থাই পারে রাজশাহীর সৌন্দর্য ও নাগরিক স্বস্তি অক্ষুণ্ন রাখতে।