সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও ডেগে জমা হওয়া টাকা পঞ্চমবারের মতো প্রকাশ্যে গণনা করা হচ্ছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনের উপস্থিতিতে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রতিনিধিরা গণনা শুরু করেন।

জেলা প্রশাসক জানান, আপাতত মাসে একবার দানের টাকা গণনা করা হবে। পরে একজন ব্যবস্থাপক ও একজন কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগ দেওয়া হবে।

তখন প্রতিদিন টাকা গণনার ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে।
এবার মাজারের পাঁচটি দানবাক্স ও তিনটি ডেগের টাকা গণনা করা হচ্ছে।

এতে দেশি টাকার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মুদ্রা পাওয়া গেছে। পাওয়া গেছে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সংবলিত চিঠিও।
এর আগে চার দফায় মাজারের দানের টাকা প্রকাশ্যে গণনা করা হয়। গত ২২ জুন প্রথম দফায় পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। পরে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে পাঁচ লাখ টাকার চেক যুক্ত করা হয়। এতে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা।

দ্বিতীয় দফায় ১১ জুলাই পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। ১৫ আগস্ট তৃতীয় দফায় পাওয়া যায় ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা। আর ১৯ সেপ্টেম্বর চতুর্থ দফায় পাওয়া যায় ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা।

চতুর্থ দফায় মোট ২ কোটি ২৯ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪০ টাকা পাওয়া যায়। সর্বশেষ গণনায় নগদ অর্থের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মুদ্রা, স্বর্ণ ও রুপাও পাওয়া যায়।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি সভায় কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দানের অর্থের ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়নকাজে ব্যয় করা হবে। এ অর্থ সোনালী ব্যাংকের একটি হিসাবে জমা থাকবে। বাকি ৬৫ শতাংশ দিয়ে মাজারের দৈনন্দিন খরচ ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেওয়া হবে।

উন্নয়ন তহবিলের ব্যাংক হিসাব জেলা প্রশাসক ও মাজারের মোতোয়াল্লির যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত হবে। এ ছাড়া একজন ব্যবস্থাপক, একজন হিসাবরক্ষক ও একজন অফিস সহকারী নিয়োগ দেওয়া হবে। ব্যবস্থাপক হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা অথবা সেনা কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

মাজারের নিরাপত্তা ও উন্নয়ন তদারকিতে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। জেলা প্রশাসক কমিটির আহ্বায়ক থাকবেন। এতে সিলেট সিটি করপোরেশন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিলেট মহানগর পুলিশ, সিলেট জেলা পরিষদ ও পুলিশ সুপারের একজন করে প্রতিনিধি থাকবেন। মাজারের মোতোয়াল্লি থাকবেন সদস্যসচিব।

মাজারের দানের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিতর্কের পর গত ২৩ জুন ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরকে কমিটির নেতৃত্ব দেওয়া হয়। মাজারের অর্থ ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

এর আগে ১৮ জুন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের উদ্যোগে পুরোনো দানবাক্স সিলগালা করা হয়। স্থাপন করা হয় নতুন দানবাক্স। একইসঙ্গে মাজারের তিনটি ঐতিহাসিক ডেগও সিলগালা করা হয়। এ নিয়ে সিলেটে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

২১ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়। তাকে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পদে সংযুক্ত করা হয়। পরদিন তার উপস্থিতিতে দানবাক্সের তালা খুলে প্রকাশ্যে টাকা গণনা করা হয়। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে মাজারের দানের অর্থ গণনা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, গণনা শেষ হতে সন্ধ্যা হয়ে যাবে। এরপর প্রকাশ্যে জানিয়ে দেওয়া হবে, পঞ্চমবারের গণনায় শাহজালাল (রহ.) মাজারে দানের কত টাকা পাওয়া গেলো।