রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় ফল বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। পাসের হার কমে দাঁড়িয়েছে ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশে। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের অর্ধেকেরও বেশি অকৃতকার্য হয়েছেন। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, বিভাগের ৩৯টি কলেজ থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেননি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করেন রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ইফফাত জেরীন।

বোর্ডের প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে নিবন্ধন করেছিলেন ১ লাখ ৪১ হাজার ৯৩৬ জন শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩৫৬ জন। পাস করেছেন ৬১ হাজার ৮৯৪ জন। অন্যদিকে অকৃতকার্য হয়েছেন ৭৫ হাজার ৪৬২ জন।

গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে ১৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ। ফলে ফলাফলের এমন অবনতি শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এবারের ফলাফলে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছেন। ছাত্রদের পাসের হার ৩৭ দশমিক ৭১ শতাংশ, আর ছাত্রীদের পাসের হার ৫৩ দশমিক ০৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও মেয়েরা এগিয়ে। এবার মোট ৪ হাজার ৫২০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১ হাজার ৯৬৫ জন ছাত্র এবং ২ হাজার ৫৫৫ জন ছাত্রী।

রাজশাহী বিভাগের আট জেলার ৭৪৩টি কলেজের শিক্ষার্থীরা ২০৮টি কেন্দ্রে এবারের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু ফলাফলে দেখা গেছে, এসব কলেজের মধ্যে মাত্র ৯টি প্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। বিপরীতে ৩৯টি কলেজের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি।

ফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে পরীক্ষা, প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় না পাওয়া, প্রশ্নের ধরনে পরিবর্তন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাবের কথা উল্লেখ করছেন।

অন্যদিকে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের মুঠোফোনে অতিরিক্ত আসক্তি, শ্রেণিকক্ষে অনিয়মিত উপস্থিতি এবং কোচিংনির্ভর পড়াশোনাকে খারাপ ফলের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন।

সামগ্রিকভাবে এবারের ফলাফল রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার মান, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান এবং শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির বিষয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে ৩৯টি কলেজে একজন শিক্ষার্থীও উত্তীর্ণ না হওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ ও পাঠদান পদ্ধতি পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।