২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলে দেশের কয়েকটি শিক্ষা বোর্ডে উদ্বেগজনক চিত্র দেখা গেছে। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে সবচেয়ে কম পাসের হার বরিশাল বোর্ডে, ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ। অন্যদিকে, গত চার বছরের মধ্যে এবার যশোর শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার সবচেয়ে বেশি কমেছে। এমন পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে ফল বিপর্যয় এড়াতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা—দুটিই কমেছে। ইংরেজি বিষয়ে ফল হয়েছে সবচেয়ে খারাপ। বোর্ডের অধীন ১১টি কলেজ থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে মাত্র তিনটি কলেজে।

বোর্ড কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের মতে, নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিতি এবং কোচিংনির্ভরতা শিক্ষার্থীদের ফল খারাপ হওয়ার অন্যতম কারণ। তাঁদের ধারণা, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেলে আগামীতে ফলাফলের উন্নতি সম্ভব।

অমৃত লাল দে মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মো. মাহবুবুল হক বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে আনা যাচ্ছে না। পড়াশোনার প্রতিও তাদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে। এসব কারণে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শরীফ মোর্শেদ রেজা বলেন, শ্রেণিকক্ষের প্রতি শিক্ষার্থীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে এবং তাদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকতে হবে। তাঁর মতে, পরীক্ষা জীবনেরই একটি অংশ।

এদিকে যশোর শিক্ষা বোর্ডেও এবার ফলাফলে বড় ধরনের অবনতি হয়েছে। গত চার বছরের মধ্যে এ বছরই বোর্ডটিতে পাসের হার সবচেয়ে কম, ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ। বোর্ডের ১৬টি কলেজের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। শতভাগ পাস করেছে মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠান।

এ ছাড়া কুড়িগ্রাম জেলার নয়টি কলেজে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে শতভাগ পাসের হার রয়েছে মাত্র চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

সার্বিক পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি নিশ্চিত করা, পাঠদানের মান বাড়ানো এবং কোচিংয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর বিষয়টি সামনে এসেছে। শিক্ষাবিদদের মতে, ভালো ফলের জন্য শুধু পরীক্ষাকেন্দ্রিক প্রস্তুতি নয়, শ্রেণিকক্ষভিত্তিক নিয়মিত শিক্ষাচর্চাও জরুরি।