নাটোরের বড়াইগ্রামে যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২৭ জন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বনপাড়া এলাকার সরকারপাড়ায় এ ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে ঘটনাস্থলেই নয়জনের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও পাঁচজন মারা যান। নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার কাজিরহাট গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে সোহাগ হোসেন (৩০)। অন্য নিহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালীর কুয়াকাটা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী আরপি পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে কুড়িগ্রাম থেকে পাবনাগামী বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই বেশ কয়েকজন প্রাণ হারান এবং বহু যাত্রী আহত হন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে নয়জনের মরদেহ উদ্ধার করেন। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিক, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, নাটোর সদর হাসপাতাল ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনাকবলিত বাসের যাত্রী আব্দুস সালাম জানান, সোমবার রাত ৯টার দিকে তিনি মাদারীপুরের মোস্তাকপুর থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসটিতে ওঠেন। তাঁর আসন ছিল বাসের পেছনের দিকে।
তিনি অভিযোগ করেন, বাসটিতে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা হচ্ছিল। সব আসন পূর্ণ থাকার পাশাপাশি অনেক যাত্রী দাঁড়িয়ে ছিলেন। অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে বাসের ভেতরে চলাচলেরও জায়গা ছিল না। এ ছাড়া বাসটি বেপরোয়া গতিতে চলছিল এবং চালক মাঝেমধ্যে হঠাৎ জোরে ব্রেক করছিলেন। এতে যাত্রীরা আসন থেকে ছিটকে পড়ছিলেন।
বনপাড়া হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ আলমগীর হোসেন জানান, দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকাজ শুরু করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে নাটোরের জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার জানিয়েছেন, তিনি দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাচ্ছেন। পরিদর্শন শেষে তদন্ত কমিটি গঠনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান, নিহতদের পরিচয় শনাক্ত এবং আহতদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।