নিজের উদ্যোগ, পরিশ্রম এবং পরিকল্পিত খামার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন নওগাঁর হালিমা খাতুন। মাত্র চার বছরের ব্যবধানে ৩৬টি গরু দিয়ে শুরু করা খামারকে ১০৫টি গরুর বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন তিনি।
নওগাঁ সদর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের বুড়িগ্রাম পাড়ার বাসিন্দা হালিমা খাতুন। স্বামী নূরে আলম সিদ্দিকীর সহযোগিতায় গবাদিপশু পালন শুরু করেন তিনি। বর্তমানে তাঁর খামারে শাহিওয়াল, ব্রাহমা ও নেপালি জাতের গরু রয়েছে।
বাসসের ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, হালিমা দেশের বিভিন্ন পশুর হাট থেকে বিভিন্ন বয়সের বাছুর সংগ্রহ করে খামারে লালন-পালন করেন। সাধারণত ছোট বাছুর বড় করে বিক্রির উপযোগী করতে প্রায় দুই বছর সময় লাগে। তুলনামূলক বড় বাছুর এক বছরের মধ্যেও বিক্রির উপযোগী হয়ে ওঠে।
খামারের ব্যয় নিয়ন্ত্রণে নিজস্ব জমিতে ঘাস উৎপাদন করা হচ্ছে। পাশাপাশি গবাদিপশুর খাবারে গম, ভুট্টা, সয়াবিনসহ বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করা হয়। পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং রোগ প্রতিরোধেও নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে।
হালিমার খামারে বর্তমানে থাকা ১০৫টি গরুর মধ্যে ৭০টি আগামী কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। আকার ও মানভেদে প্রতিটি গরু আড়াই লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকায় বিক্রির প্রত্যাশা করছেন তিনি।
তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত কোরবানির ঈদে ৪০টি গরু বিক্রি করে প্রতিটিতে গড়ে প্রায় এক লাখ টাকা লাভ হয়েছে। গরুর পাশাপাশি ছাগল পালনেও ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছেন তিনি।
আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে দূর থেকেও খামারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন হালিমা। তাঁর উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকার আগ্রহী ব্যক্তিরা খামার পরিদর্শনে আসছেন।
স্থানীয় প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারাও খামারটির কার্যক্রমকে উল্লেখযোগ্য হিসেবে দেখছেন। হালিমার এই উদ্যোগ প্রমাণ করছে, সঠিক পরিকল্পনা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং বাজার সম্পর্কে ধারণা থাকলে গ্রামেও গড়ে তোলা সম্ভব বড় পরিসরের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান।