যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক ব্যস্ততার মধ্যেও ইরানকে নিয়ে সামরিক ও কূটনৈতিক হিসাব-নিকাশে ব্যস্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সামরিক সক্ষমতার বড় অংশ ধ্বংস করা হয়েছে দাবি করে তিনি জানিয়েছেন, দেশটির আরও এক বা দুটি স্থাপনায় হামলার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তবে এ মুহূর্তে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর তাড়া নেই বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ভালোভাবে এগোচ্ছে। তবে দেশটির ওপর পুরোপুরি আস্থা রাখা যায় না। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ও সামরিক অবকাঠামোর বড় অংশ ধ্বংস করেছে। এখনো এক বা দুটি স্থাপনায় ব্যবস্থা নেওয়া বাকি রয়েছে। চাইলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সেগুলোতে হামলা চালানো সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইরানের পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। পাহাড়টির গভীরে সম্ভাব্য গোপন পারমাণবিক স্থাপনা রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা থাকলেও এ বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, সেখানে কোনো পারমাণবিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে তেহরান।

নতুন সংঘাতের আশঙ্কা, আলোচনার পথও খোলা

রোববার বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে নতুন করে হামলা হলে পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। এতে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।

তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরানে নতুন হামলা চালানোর বিষয়ে ট্রাম্প এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। একই সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রাখতেও ওয়াশিংটন আগ্রহী বলে জানান তিনি।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য নতুন হামলার হুমকির পর শনিবার দেশ দুটিকে সতর্ক করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তাঁর এ সতর্কবার্তা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

নির্বাচন ঘিরে সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরেও ইরান পরিস্থিতি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। নির্বাচনে কংগ্রেসে রিপাবলিকান পার্টির আধিপত্য কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর মধ্যেই ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের সরকার উৎখাতের জন্য বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘ঐতিহাসিক ও একবারই আসা সুযোগ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে ইসরায়েলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও নতুন সরকার গঠন এখনো সম্পন্ন হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ইরানের পাল্টা অবস্থান এবং চলমান কূটনৈতিক আলোচনা—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।