যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সতর্কতা উপেক্ষা করে রাশিয়ায় বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। হামলায় রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ একটি তেল স্থাপনায় আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে।

এতে মস্কোর সঙ্গে কিয়েভের যুদ্ধ নিয়ে ওয়াশিংটনের চাপ এবং ইউক্রেন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) প্রকাশিত সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার রাত থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত চালানো এই হামলা চলতি বছরে রাশিয়ার ওপর ইউক্রেনের অন্যতম বড় ড্রোন অভিযান।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, রাতভর দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ইউক্রেনের ১ হাজার ১৫টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
রাশিয়ার কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল সেন্ট পিটার্সবার্গের তেল টার্মিনাল।

বছরে ১ কোটি ২৫ লাখ টন তেল পরিবহণের সক্ষমতাসম্পন্ন এই স্থাপনায় হামলার পর আগুন লাগে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফায়ার পয়েন্ট।
সেন্ট পিটার্সবার্গে একটি সরবরাহকেন্দ্রেও হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাশিয়ার বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান ওজোন।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় একজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন। আবাসিক ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ট্রাম্পের সঙ্গে বাড়ছে জেলেনস্কির দূরত্ব
রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করতে ইউক্রেনের প্রতি ট্রাম্পের আহ্বানের মধ্যেই এই অভিযান চালানো হলো। এর আগে ট্রাম্প কিয়েভের রুশ তেল শোধনাগারে হামলাকে ‘লজ্জাজনক’ বলে সমালোচনা করেছিলেন।

গত সপ্তাহে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন জ্বালানি অবকাঠামোয় পরস্পরের হামলা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে। তবে কিয়েভ ও মস্কো কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো চুক্তির কথা নিশ্চিত করেনি। ইউক্রেন অল্প সময়ের জন্য হামলা বন্ধ রাখলেও পরে আবার অভিযান শুরু করে। অন্যদিকে, ইউক্রেনের অভিযোগ, রাশিয়া তাদের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা অব্যাহত রেখেছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেন, ট্রাম্পের ঘোষিত জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধের উদ্যোগের পর গত এক সপ্তাহে রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি ও তেল-গ্যাস খাতে ৭৬ বার হামলা চালিয়েছে। রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সুযোগ নিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইউক্রেনে রাশিয়ার পাল্টা হামলাও অব্যাহত রয়েছে। ইউক্রেনের কর্তৃপক্ষের দাবি, রোববার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দেশটিতে ১১ জন নিহত এবং প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছেন। ওডেসা অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাগুলোও বড় ধরনের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

ড্রোন প্রতিরক্ষায় স্টারলিংক নিয়ে উদ্বেগ
রাশিয়ার হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেনের ড্রোন প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। জেলেনস্কির অভিযোগ, স্টারলিংক যোগাযোগব্যবস্থার গতিসীমার কারণে রুশ ড্রোন প্রতিহত করতে ব্যবহৃত কিছু ইউক্রেনীয় ড্রোন পরিচালনায় সমস্যা হচ্ছে।

তার ভাষ্য, ঘণ্টায় ১৬১ কিলোমিটার গতির সীমা অতিক্রম করলে স্টারলিংক সংযোগ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, ফলে ড্রোনের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে স্টারলিংক ব্যবস্থায় ইউক্রেনের কার্যক্রম সীমিত করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

সব মিলিয়ে, রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় ইউক্রেনের নতুন হামলা এবং মস্কোর পাল্টা আক্রমণের মধ্যে কিয়েভের সঙ্গে ওয়াশিংটনের মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সামনে শীত মৌসুমে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা রক্ষা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

তথ্যসূত্র: সিএনএন