সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে গত শনিবার পাঁচ ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সৌদি আরব। এ নিয়ে চলতি বছর দেশটিতে মোট মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা ১৮৮তে দাঁড়িয়েছে।
সরকারি বিবৃতি থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ সংখ্যা জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
সম্প্রতি সৌদি আরব দুই বাংলাদেশি নারী-পুরুষের মৃত্যুদণ্ডও কার্যকর করেছে।
বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পাঁচ ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তথ্য জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
তারা জানিয়েছে, সৌদি আরবের এই পাঁচ নাগরিককে ‘একটি বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনে যোগ দেওয়া’, নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর গুলি চালানো এবং ‘রাজ্যের ভেতরে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে সহায়তা দেওয়ার’ অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে এই পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
দেশটির শিয়া সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকাংশই এই অঞ্চলে বাস করে এবং সুন্নি-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে তারা প্রান্তিকতার শিকার হওয়ার অভিযোগ করে আসছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে এ পর্যন্ত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর দেশটিতে ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলো, যার বেশিরভাগই হয়েছে পূর্বাঞ্চলে। তুলনামূলকভাবে গত ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ৪০ জন।
ইউরোপিয়ান সৌদি অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস নামের একটি বেসরকারি সংস্থা এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের দাবি, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচজনের মধ্যে একজনের বিচার হয়েছিল অপ্রাপ্তবয়স্ক থাকাকালীন সংঘটিত অপরাধের জন্য।
সংস্থাটি বলেছে, এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা আইনের একটি ‘নগ্ন লঙ্ঘন’। এছাড়া পাঁচটি মৃত্যুদণ্ডই প্রমাণ করে যে, ‘সন্ত্রাসবাদ দমনের ছদ্মবেশে দমনপীড়নের হাতিয়ার হিসেবে মৃত্যুদণ্ড ব্যবহারের প্রবণতা এক বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।’
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের প্রতিদিনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়ে সৌদি আরব যখন ঠিক এমন একটি পরিস্থিতিতে রয়েছে, তখনই এই মৃত্যুদণ্ডের খবর এলো। উল্লেখ্য, ইরান-সমর্থিত হুতিদের বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকারকে সামরিকভাবে সমর্থন দিয়ে আসছে রিয়াদ।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, চীন ও ইরানের ঠিক পরেই ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্বের তৃতীয় সর্বাধিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকারী দেশ ছিল সৌদি আরব।
সৌদি আরব মনে করে, সমাজে জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য মৃত্যুদণ্ড অপরিহার্য। তাছাড়া সব ধরনের আইনি আপিলের সুযোগ শেষ হওয়ার পরেই কেবল এই সাজা কার্যকর করা হয় বলে দেশটি বরাবরই দাবি করে আসছে।