নদীর পানি নেমে যাওয়ার পর জেগে ওঠা বিস্তীর্ণ বালুচর একসময় অনেকটাই অনাবাদি পড়ে থাকত। তবে এখন সেই বালুচরেই মিষ্টিকুমড়া চাষ করে আয়ের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছেন উত্তরাঞ্চলের কৃষকরা। নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলে কৃষির এই সম্প্রসারণ গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার নদীতীরবর্তী বিভিন্ন চরাঞ্চলে শীতকালীন মিষ্টিকুমড়া চাষের প্রস্তুতি চলছে। নদীর পানি কমে যাওয়ায় জেগে ওঠা জমি কাজে লাগিয়ে চাষাবাদের পরিধি বাড়াতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন কৃষকরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রংপুর কৃষি অঞ্চলের চরাঞ্চলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রায় ১০ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে মিষ্টিকুমড়া চাষ হচ্ছে। এসব জমিতে বছরে আনুমানিক ২ লাখ ৩০ হাজার টন মিষ্টিকুমড়া উৎপাদিত হচ্ছে, যার মূল্য প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা।
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার চর তালুক শাহবাজ গ্রামের কৃষক নুরাশ চন্দ্র রায় গত মৌসুমে তিস্তা নদীর ধুসমারা চরে এক একর জমিতে মিষ্টিকুমড়া চাষ করেছিলেন।
বাসসকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁর চাষাবাদে খরচ হয়েছিল প্রায় ৬৫ হাজার টাকা। উৎপাদিত মিষ্টিকুমড়া বিক্রি করেন ২ লাখ ৭০ হাজার টাকায়। তাঁর হিসাবে লাভ হয়েছে দুই লাখ টাকার বেশি। সফলতার ধারাবাহিকতায় চলতি মৌসুমে দেড় একর জমিতে মিষ্টিকুমড়া চাষের পরিকল্পনা করেছেন তিনি।
গাইবান্ধার চর কড়াইবাড়ি গ্রামের কৃষক ময়না বেগমও বালুচরে মিষ্টিকুমড়া চাষ করে লাভবান হওয়ার কথা জানিয়েছেন। চলতি মৌসুমে তিনিও আবাদ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছেন।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, চরাঞ্চলের বালুমাটিতে উপযোগী ফসল নির্বাচন, মানসম্মত বীজ ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় পরিচর্যা নিশ্চিত করতে পারলে মিষ্টিকুমড়া চাষ আরও সম্প্রসারণ করা সম্ভব। তবে সেচ, মাটির আর্দ্রতা ও বাজারজাতকরণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
নদীভাঙন ও প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার সঙ্গে সংগ্রাম করা চরাঞ্চলের মানুষের জন্য এ ধরনের কৃষিকাজ নতুন জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি করছে। পরিকল্পিতভাবে অনাবাদি জমি কাজে লাগানো গেলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে কৃষকের অবদান আরও বাড়তে পারে।